দ্বিতীয় বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় জাপান

আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ১১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ১১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
জাপানের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ইওয়াত উপকূলের কাছে সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির কর্মকর্তারা নতুন করে সতর্কতা জারি করেছেন। তারা বলছেন, আগামী সপ্তাহে আরো বড় ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
 
ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয় এবং মানুষকে দ্রুত নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়। ৩ মিটার পর্যন্ত সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কাও করা হয়েছিল।
 
রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার উত্তরে ইওয়াতে অঞ্চলের সমুদ্র এলাকায় এই ভূমিকম্প হয়। এর ফলে হাজার হাজার মানুষকে উপকূল ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় যেতে হয়। তবে বাস্তবে সবচেয়ে বড় সুনামি ঢেউ ছিল প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার। কয়েক ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
 
এরপরও জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সামনে আরো শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে, যা বড় ধরনের সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
 
তারা বলছে, ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি। এই সতর্কতায় অনেকেই আতঙ্কিত, কারণ ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও তাজা। সেই সময়ের সুনামিতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
 
সোমবারের ভূমিকম্পটি সমুদ্রের নিচে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব হনশু ও হোক্কাইডো অঞ্চলেও পড়ে। এমনকি টোকিওতেও কম্পন অনুভূত হয়।
 
জাপানের হোক্কাইডো অঞ্চলে ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পরও সুনামি সতর্কতা চালু ছিল। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।
 
হোক্কাইডোতে বসবাসকারী মায়ানমারের নাগরিক চাও সু থুয়ে বলেন, ভূমিকম্পের সতর্কতা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই নিচে নেমে আসে। তবে তিনি জানান, এবার কম্পন তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
 
তিনি আরো বলেন, এলাকাজুড়ে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মানুষকে সম্ভাব্য সুনামি সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। অফিস কর্মীদেরও আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে।
 
ভূমিকম্পের কারণে কিছু বুলেট ট্রেন চলাচলে সমস্যা হয় এবং প্রায় ১০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জাপানের ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানান, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর তখনও পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
 
সুনামি সতর্কতা জারির পর জাপানের পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। সতর্কতার মাত্রা ছিল তিনটির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মানুষকে উপকূল ও নদীর তীর ছেড়ে উঁচু জায়গা বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়।
 
জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানায়, সুনামির ঢেউ বারবার আঘাত করতে পারে, তাই সতর্কতা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা ছেড়ে না যেতে বলা হয়। একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, যিনি সবাইকে আরো উঁচু ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে আনা হয় এবং মধ্যরাতের কিছু আগে তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়।
 
জাপান ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প হয়। বিশ্বে ৬.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১০শতাংশ জাপানেই ঘটে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]