জ্বালানি সংকট নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ: মুলতবি প্রস্তাব নাকচ, বিকল্প আলোচনায় রাজি স্পিকার

আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০১:২২:৩২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০১:২২:৩২ পূর্বাহ্ন
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি রেখে আলোচনার প্রস্তাব করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে স্পিকার বিকল্প বিধিতে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় তারা পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অধিবেশন মুলতবি করে আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ তো তাদের প্রয়োজনে আমাদের এখানে পাঠিয়েছে, আমাদের প্রয়োজনে তো এখানে আসি নাই।

সেই প্রয়োজনই যদি পূরণ করতে না পারলাম, তবে এই সংসদে থাকার কোনো সার্থকতা নাই। এই সংসদে আমরা প্রত্যেকটি সেকেন্ড ব্যয় করছি জনগণের রেভিনিউ থেকে, আমাদের দায় জনগণের কাছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের বিবৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার বলছে তেলের সংকট নাই, কিন্তু বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মানুষের মনে দারুণ অসন্তোষ। আমি নিজে এটি বোঝার চেষ্টা করেছি। সংকট আছে বলেই এখন হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভার্চুয়ালি কোর্ট হচ্ছে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য! আমরা এখানে কাউকে দোষারোপ করতে আসিনি, আমরা পরিস্থিতি সহজ করতে কন্ট্রিবিউট করতে চাই। দয়া করে এই নোটিশটি নিষ্পত্তি না করে আলোচনার জন্য ফিক্সআপ করুন।”

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা যে প্রস্তাবটি এনেছেন তা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে। তবে ব্রিটিশ কালচার অনুযায়ী মুলতবি প্রস্তাব সাধারণত ট্রেজারি বেঞ্চের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে আনা হয়। আমাদের সংসদীয় ইতিহাসে এমন প্রস্তাব খুব কমই আলোচনা হয়েছে। বর্তমান সেশনেই দুটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা নজিরবিহীন। এখন আরেকটি করলে তা ভুল প্রেসিডেন্স তৈরি করবে।”

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের কোনো সংকট নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা টলারেবল মাত্রা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি হতে দেইনি। কিন্তু ন্যাশনাল ইকোনমি যখন অ্যাফোর্ড করতে পারছিল না এবং অপচয় বা পাচার হওয়ার টেন্ডেন্সি বন্ধ করতে আমরা কিঞ্চিৎ মূল্যবৃদ্ধি করেছি। তাই অধিবেশন মুলতবি করে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে ৬৮ বিধিতে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশ দিলে এক ঘণ্টা আলোচনা হতে পারে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আপনি বিবৃতির কথা বলেছেন, তিনি (মন্ত্রী) যে বিবৃতি দিয়েছেন আমি বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল খুঁজে পাইনি। তো সেই বিবৃতি দিয়ে কী হবে? এই বিবৃতিতে কি সমস্যার সমাধান হবে? একদিকে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নাই, অন্যদিকে বাস্তবে কী ঘটতেছে সেইটা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন। আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করেই বলেছেন কোনো সংকট নাই। এটা আসলে সংসদের ভেতরে নাই, বাইরে। সংকটটা আমাদের সংসদের বাইরে। এবং সংকট আছে বলে খোদ হাইকোর্টের মতো ভেরি সেনসিটিভ জায়গায় দুই দিন এখন এই জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে কোর্ট হবে ভার্চুয়ালি।”

দুইপক্ষের বক্তব্য শুনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই আলোচনা করতে চান। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ মুলতবি করে হবে কি না। অলরেডি আধা ঘণ্টার মতো হারমোনিয়াস আলোচনা হয়ে গেছে। তাই সংসদ মুলতবি না করে এই আলোচনাটি আমরা ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনা হিসেবে নিয়ে যাই। এটি এক ঘণ্টাও হতে পারে।”

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) উপস্থিতিতে এই আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নতুন করে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]