মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্তে ইসরায়েল কোনো প্ররোচনা দেয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং বিষয়টিকে নিজের নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল তাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে উৎসাহিত করেনি। বরং ৭ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ তার দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি গণমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সমালোচনা করে দাবি করেন, এসব প্রতিবেদনের বড় অংশই বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত।
এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী John Kerry-এর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu অতীতে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানে হামলার প্রস্তাব দিয়েছেন। কেরির তথ্যমতে, George W. Bush, Barack Obama এবং Joe Biden এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়।
কেরি আরও উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিস্তারিত কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময় ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট Kamala Harris-ও এক বক্তব্যে বলেন, ট্রাম্প মূলত ইসরায়েলের নেতৃত্বের প্রভাবেই এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের ঝুঁকি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।