গাজীপুরে মাদক সিন্ডিকেট: একই পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ১০:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ১০:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন

মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের অভিযোগে একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের তথ্য উঠে এসেছে।
 

সোমবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কামাল উদ্দিন, জাহানারা বেগম, মানিক মিয়া, আব্দুল আওয়াল, আসমা, রেশমা খাতুন এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার।
 

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, একই পরিবারের বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই ও এক পুত্রবধূ মিলে একটি সংগঠিত চক্র গড়ে তোলে, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তারা নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেন করেছে, যা মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
 

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আসমার বিরুদ্ধে তিনটি, রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে দশটি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
 

তদন্তে আরও জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া এলাকায় বসবাসরত তিন বোন—আসমা, রেশমা খাতুন ও লিজা বেগম—এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যুক্ত করে একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। যদিও তাদের পারিবারিক শিকড় চাঁদপুর জেলায়, তবে তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে তারা স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করত। এই অবৈধ বাণিজ্যের অর্থ নিজেদের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
 

এছাড়া কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর একটি অংশ দিয়ে প্রায় ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি ক্রয়ের তথ্যও মিলেছে। বাকি অর্থের একটি অংশ পুনরায় মাদক ক্রয় এবং ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

সিআইডি জানিয়েছে, তাদের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুরো চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত, অজ্ঞাত সদস্যদের চিহ্নিতকরণ এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 
 
 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]