সকালের নাশতায় কোনটি সেরা: কলা নাকি কমলা?

আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১২:১৯:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১২:২০:৫৩ অপরাহ্ন
সারা দিন আমরা কতখানি শক্তি অনুভব করব তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সকালের নাশতার ওপর। দিনের প্রথম খাবারটি কেবল ক্ষুধাই মেটায় না; বরং সারা দিনের কাজের গতি ও মনোযোগ ঠিক রাখতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেরই সকালের নাশতায় পছন্দের তালিকায় থাকে ফল। আর ফলের কথা ভাবলেই মনে আসে কমলা আর কলার নাম। ফল দুটি পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও শরীরের ওপর এদের প্রভাব কিন্তু ভিন্ন। তাই সকালের নাশতায় এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর, তা জানা জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস কলা:

যাঁদের সারা দিন খুব ব্যস্ততায় কাটে বা যাঁদের সারা দিন অনেক শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, তাঁদের জন্য কলা আদর্শ। কলায় রয়েছে গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও সুক্রোজ, যা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। কলায় থাকা আঁশ রক্তে চিনি শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে শরীরে শক্তির মাত্রা বেড়ে গিয়ে আবার কমে যায় না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে। এ ছাড়া কলায় থাকা পটাশিয়াম পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে। যাঁরা সকালে ব্যায়াম করেন বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য কলা আদর্শ খাবার। এটি পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ থাকে বলে বারবার ক্ষুধা অনুভব হয় না।

সতেজতা ও আর্দ্রতার জোগান দিতে কমলা:

যাঁরা সকালে হালকা কিছু খেতে পছন্দ করেন বা যাঁদের খুব একটা ভারী কিছু খাওয়ার রুচি থাকে না, তাঁদের জন্য কমলা সকাল বেলার সেরা ফল। এতে ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেট কলার তুলনায় কম থাকলেও পানির পরিমাণ অনেক বেশি—৮৫ থেকে ৮৭ শতাংশ। শরীরে পানির পরিমাণ কম হয়ে গেলে ক্লান্তি অনুভূত হয়। কমলায় থাকা প্রচুর পরিমাণ পানি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়। কমলা খুব সহজে হজম হওয়ায় দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শরীর সতেজ করে তোলে। এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ কেবল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না; বরং শরীরচর্চা বা কাজের ধকল সামলানোর শক্তি দেয়। যাঁরা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা নিস্তেজ অনুভব করেন, তাঁদের জন্য সকালে এক গ্লাস কমলার রস বা আস্ত একটি কমলা দারুণ কার্যকর।

কোনটি বেছে নেবেন:

কলা: যদি আপনার দিন খুবই ব্যস্ত যাবে বলে মনে হয় বা নাশতার পর অনেকক্ষণ আর কিছু খাওয়ার সুযোগ না থাকে, তবে আপনি কলা বেছে নিন। বিশেষ করে ব্যায়ামের আগে বা ভারী কোনো কাজের আগে কলা পেশির জন্য প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট নিশ্চিত করে।

কমলা: আপনি যদি সকালে ওঠার পর সতেজ কোনো শুরু চান, তবে কমলা বেছে নিন। এটি শরীরে পানির চাহিদা মেটাবে এবং হজমপ্রক্রিয়া সক্রিয় করবে।

সমন্বয়ই সেরা সমাধান:

পুষ্টিবিদদের মতে, কলায় থাকা শর্করা এবং কমলায় থাকা পানির পরিমাণ দুটোই শরীরের জন্য সমান জরুরি। তাই কোনো একটিকে বাদ না দিয়ে সম্ভব হলে সকালের নাশতায় দুটো ফলেরই সমন্বয় করুন। এতে শরীর আর্দ্র থাকার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ কাজ করার শক্তিও পাবেন। আপনি চাইলে ওটস বা দইয়ের সঙ্গে কলা মিশিয়ে খেতে পারেন এবং সঙ্গে এক গ্লাস তাজা কমলার জুসও খেতে পারেন। এতে শরীর সব ধরনের পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি নাশতা হবে মুখরোচক।

সকালের নাশতা হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নির্বাচনের বিষয়। শরীর ও কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সঠিক ফলটি বেছে নিন। মনে রাখবেন, সুষম নাশতা কেবল পেটই ভরায় না; বরং সারা দিনের জন্য মানসিকভাবে চনমনে এবং শারীরিকভাবে কর্মক্ষম রাখে। সঠিক ফলের প্রাকৃতিক পুষ্টি আপনার সকালটিকে করবে প্রাণবন্ত ও সফল। তাই সকালের নাশতায় নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক ফলটি রাখুন অথবা দুটোই।

সূত্র: এনডিটিভি ফুডস ও অন্যান্য

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]