ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেগো অ্যানিমেশন: ইরানের ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করল গুগল

আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১১:৫৯:১৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১১:৫৯:১৪ পূর্বাহ্ন
ইউটিউবের মালিক প্রতিষ্ঠান গুগল ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠীর চ্যানেল তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। চ্যানেলটি লেগো-থিমযুক্ত অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও তৈরি করত। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইউটিউবের এক মুখপাত্র মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, ‘পর্যালোচনার পর আমরা স্প্যাম, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্ক্যাম সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে চ্যানেলটি বন্ধ করে দিয়েছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘ইউটিউব এমন কোনো স্প্যাম, স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কাজ সমর্থন করে না যা ইউটিউব কমিউনিটির সুযোগ গ্রহণ করে।’

এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া নামের ওই ইরানপন্থী চ্যানেলটির কন্টেন্টগুলোর বেশিরভাগই ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে উপহাস করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তামাশা করা সংক্রান্ত অ্যানিমেশন। ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে বলেনি যে চ্যানেলটি কীভাবে তাদের নীতি লঙ্ঘন করেছে। তবে এর আগে চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুসারী বলে তকমা দেওয়া হয়েছিল।

এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন, অন্যদিকে ইরানি জেনারেলরা ‘প্রস্তর যুগে প্রত্যাবর্তন’ লেখা একটি লাল বোতাম টিপছেন। এটি মূলত মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া একটি হুমকির পাল্টা প্রতিক্রিয়া। অন্য একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে জ্বলন্ত পশ্চাৎদেশসহ একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়, যেখানে লেখা, ‘বিজয়! আমি একজন পরাজিত ব্যক্তি।’

বেশ কিছু ভিডিওতে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে মহানবীর (সা.) দৌহিত্র হোসেন ইবনে আলীর চিত্রায়নও অন্তর্ভুক্ত। শিয়া মুসলমানদের কাছে তিনি প্রতিরোধ ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের একটি অন্যতম প্রতীক। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে গুগলের চ্যানেলটি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। তারা জানিয়েছে, তাদের কন্টেন্ট ‘হিংসাত্মক’ হওয়ার অজুহাতে এটি করা হয়েছে। তারা লিখেছে, ‘মানে সত্যিই! আমাদের লেগো-স্টাইলের অ্যানিমেশনগুলো কি আসলেই হিংসাত্মক?’

ফারসি ভাষায় আখবার এনফেজারি নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইরান সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তবে তাদের ভিডিওগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।

স্থগিত হওয়ার আগে তাদের সর্বশেষ ভিডিওতে দেখানো হয়েছিল, ট্রাম্প এপস্টাইন ফাইল থেকে মানুষের নজর সরাতে এবং ইসরায়েলের নির্দেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ করছেন। ওই ভিডিওতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, এপস্টাইন এবং তাঁর সহযোগীরা নরমাংস ভক্ষণ বা স্বজাতীয় ভক্ষণে লিপ্ত ছিলেন।

এর আগের একটি ভিডিওতে মার্কিন সহিংসতার শিকার হওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে আদিবাসী আমেরিকান, ভিয়েতনামী এবং গাজা, হিরোশিমা ও নাগাসাকির শিশুরা। সেখানে ম্যালকম এক্স-এর উক্তিও ব্যবহার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং তাদের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে শব্দযুদ্ধের একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস থেকেও মূলত এআই-জেনারেটেড ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টকে মহিমান্বিত করে এবং মার্কিন শক্তি প্রদর্শন করে। গত সোমবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে তাঁকে যিশু খ্রিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে মনিটরিং গ্রুপ নেটব্লকসের মতে, এসবের বেশিরভাগই ইরানিদের কাছে পৌঁছাবে না, কারণ তারা বর্তমানে ইতিহাসের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কেউ কেউ স্টারলিংকের মতো বিকল্প পদ্ধতিতে এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হলেও সরকারি মিত্রদের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রধান, যিনি নিজেকে মিস্টার এক্সপ্লোসিভ বলে পরিচয় দেন, জানান—তাঁর দলে ১০ জনেরও কম লোক রয়েছে এবং ইরান সরকার তাঁর কোম্পানির একজন ‘গ্রাহক।’

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]