দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছালেও স্মার্টফোন ব্যবহারে জেলাভিত্তিক বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ জরিপে স্মার্টফোন ব্যবহারে ফেনী ও কুমিল্লা শীর্ষে থাকলেও উত্তরাঞ্চল ও কিছু উপকূলীয় জেলা পিছিয়ে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি এক্সেস অ্যান্ড ইউজ সার্ভে ২০২৪-২৫’-এর তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, থানাপর্যায়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফেনী জেলা। এর পরেই রয়েছে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এ ছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ঝালকাঠি, শেরপুর ও নীলফামারী। এসব জেলায় স্মার্টফোনের বিস্তার তুলনামূলকভাবে কম, যা আধুনিক ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিচ্ছে। তবে সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। থানাপর্যায়ে মোবাইল ফোন সংযোগে শীর্ষে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। এরপর লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ। এ থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মোবাইল প্রযুক্তি দেশের প্রায় সব জায়গায় পৌঁছে গেলেও স্মার্টফোন ব্যবহারে বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। মোবাইল সংযোগে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নড়াইল, মেহেরপুর, শেরপুর, রংপুর ও বরিশাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। জরিপের ফল তুলে ধরেন জরিপ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি।
জরিপে দেখা যায়, স্মার্টফোনে পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় এই হার ৬৬ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৬৫ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে ৫৫ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনাপর্ব পরিচালনা করেন বিবিএসের কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ। ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে স্মার্টফোন ব্যবহার বেশি কেন, এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানকার প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের হাতে স্মার্টফোন বেশি। সেটা একটা কারণ হতে পারে।
গত তিন মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলাধুলা-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান, যা ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন। ওই জরিপে বলা হয়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও দক্ষতা ও ব্যবহারের ধরনে বৈচিত্র্য এবং বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারে মৌলিক দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কপি-পেস্ট করার প্রবণতা, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে বিদ্যমান।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ওই জরিপে আরও উঠে এসেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো খুবই সীমিত মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
পরিবারভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি, বিপরীতে পঞ্চগড়ে সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার। এ ছাড়া, উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ কী কাজ করে, সেই বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে থাকে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য। ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এরপরেই ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানতে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়। জরিপে ডিজিটাল দক্ষতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ মানুষ কপি ও পেস্ট করতে পারে। ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফাইল স্থানান্তর করতে পারে।
অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ঝালকাঠি, শেরপুর ও নীলফামারী। এসব জেলায় স্মার্টফোনের বিস্তার তুলনামূলকভাবে কম, যা আধুনিক ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিচ্ছে। তবে সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। থানাপর্যায়ে মোবাইল ফোন সংযোগে শীর্ষে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। এরপর লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ। এ থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মোবাইল প্রযুক্তি দেশের প্রায় সব জায়গায় পৌঁছে গেলেও স্মার্টফোন ব্যবহারে বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। মোবাইল সংযোগে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নড়াইল, মেহেরপুর, শেরপুর, রংপুর ও বরিশাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। জরিপের ফল তুলে ধরেন জরিপ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি।
জরিপে দেখা যায়, স্মার্টফোনে পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় এই হার ৬৬ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৬৫ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে ৫৫ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনাপর্ব পরিচালনা করেন বিবিএসের কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ। ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে স্মার্টফোন ব্যবহার বেশি কেন, এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানকার প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের হাতে স্মার্টফোন বেশি। সেটা একটা কারণ হতে পারে।
গত তিন মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলাধুলা-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান, যা ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন। ওই জরিপে বলা হয়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও দক্ষতা ও ব্যবহারের ধরনে বৈচিত্র্য এবং বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারে মৌলিক দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কপি-পেস্ট করার প্রবণতা, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে বিদ্যমান।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ওই জরিপে আরও উঠে এসেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো খুবই সীমিত মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
পরিবারভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি, বিপরীতে পঞ্চগড়ে সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার। এ ছাড়া, উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ কী কাজ করে, সেই বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে থাকে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য। ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এরপরেই ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানতে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়। জরিপে ডিজিটাল দক্ষতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ মানুষ কপি ও পেস্ট করতে পারে। ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফাইল স্থানান্তর করতে পারে।