ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দ্রুত কমে আসছে এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ–এর প্রধান ফাতিহ বিরোল বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত টিকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা দেখা দিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানির ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, যা ধীরে ধীরে ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর প্রভাব সরাসরি ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পড়ছে।
ফাতিহ বিরোল এ পরিস্থিতিকে “অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানির দাম—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর সংগঠন এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে জানিয়েছিল, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপে জেট ফুয়েলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে কিছুটা সরবরাহ বজায় থাকলেও তা মূলত যুদ্ধ শুরুর আগে পাঠানো চালানের কারণে। নতুন সরবরাহ কমে যাওয়ায় মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে সামনে ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিমান পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।