ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আশঙ্কায় দুটি চীনা ব্যাংককে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লেনদেনের প্রমাণ মিললে সেকেন্ডারি স্যাংশন বা দ্বিতীয়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাল্টা কড়া অবস্থানে চীন জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে নেবে না।
বুধবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, দুটি চীনা ব্যাংককে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ইরানের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেকেন্ডারি স্যাংশন আরোপে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এতদিন চীন ইরানের ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল কিনত, যা দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ মেটাত। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের কারণে সেই তেল কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ওয়াশিংটনের ধারণা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোও জিয়াকুন তীব্র ভাষায় এই হুমকির নিন্দা জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা চীনের কাছে বৈধ নয় এবং এ ধরনের চাপ চীন কখনো স্বীকার করবে না।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি করে এবং তেল শিল্পে নতুন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে চীনা ব্যাংকগুলোকে দেওয়া সতর্কবার্তা মার্কিন-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।