নারী সেজে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে স্কুল-কলেজপড়ুয়া ও তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও সম্পদ লুটের অভিযোগে এক 'সিরিয়াল রেপিস্ট'কে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গত দুই মাসে ১৩ জন স্কুল-কলেজছাত্রী ও তরুণীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় দনিয়া কলেজের সামনে থেকে রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচ ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, প্রাথমিকভাবে একটি পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারের পর তদন্তে আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রাব্বি প্রযুক্তিতে বেশ দক্ষ। মূলত মিরপুর এলাকার স্কুল ও কলেজছাত্রীদের টার্গেট করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন। এরপর উপহার আদান-প্রদান বা পোশাক ডেলিভারির কথা বলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যেতেন। সেখানে ধর্ষণের পাশাপাশি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া বা পর্নো সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতেন এবং টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেন। যাত্রাবাড়ীতে দিন ও রাতের জন্য তার আলাদা দুটি 'ডেন' ছিল।
তদন্তে দেখা গেছে, রাব্বি প্রথম ভুক্তভোগীর মোবাইল ব্যবহার করে তার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে পরবর্তী শিকার বেছে নিতেন। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একই কায়দায় ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাব্বির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে তিনটি মামলা ও চারটি জিডি রয়েছে। পুলিশ মনে করছে, প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ চক্রে আর কেউ জড়িত কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।