ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবে কর্মরত ইতালীয় সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সংসদ সদস্য।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিন ইউরোপ পার্টির মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলো বোনেল্লি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনরত ইতালীয় শান্তিরক্ষীরা ইসরাইলি বাহিনীর হামলার শিকার হওয়ার পরই সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। তার মতে, এর আগে গাজায় সামরিক অভিযানের সময়ও চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হলেও তখন তা গ্রহণ করা হয়নি।
বোনেল্লি আরও দাবি করেন, গাজায় দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযান, বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস এবং প্রাণহানির ঘটনায় ইতালির জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এই জনমতও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
ইতালির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেটো ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চুক্তি বাতিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০০৫ সালে অনুমোদিত এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুক্তিটি প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিধান ছিল।
অন্যদিকে, ইসরাইল সরকার ইতালির এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চুক্তিটি কার্যত সক্রিয় ছিল না এবং এর স্থগিতাদেশ ইসরাইলের নিরাপত্তায় কোনো বাস্তব প্রভাব ফেলবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রশ্নে বাড়তে থাকা চাপ ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ইতালির এই সিদ্ধান্তে।