এখন হজের মৌসুম। শাওয়াল হজের মাস, যেভাবে যুলকাদা ও যুলহাজ্জাও হজের মাস। যারা বিত্তবান, তাদের ওপর হজ করা ফরয। ঠিক কাদের ওপর ফরয, কী পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ ফরয হয়, এ পোস্ট সে জন্যে নয়। স্রেফ হজের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে, বিত্তবানদের সাবধান করার জন্যে।
সচ্চল ও বিত্তবান মানুষ হজ করতে হবে এবং যাকাত দিতে হবে- বিষয়টি তারা যেন মাথায় রাখে। ইসলামে যে পাঁচটি রোকন বা স্তম্ভ রয়েছে, সবগুলো একত্রে ধনীদের জন্যে প্রযোজ্য। তাদের মুক্তির জন্যে এবং নিজেদের ঈমান ও দীনকে রক্ষার জন্যে সবগুলোই আবশ্যক। গরীবদের জন্যে মাত্র তিনটি রোকন বা স্তম্ভ- ঈমান, নামায ও রোযা। তারা এ তিনটি রক্ষা করলেই, এবং একটু হালাল-হারাম বেঁছে চললে, সবরে শোকরে জীবনযাপন করলে সহজে জান্নাতে চলে যাবে। এমনকি তারা ধনীদের আগেই জান্নাতে পৌঁছে যাবে, যখন ধনীরা ধনের হিসাব দেওয়ার জন্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে।
কিন্তু ধনীদের মুক্তির জন্যে পাঁচটি খুঁটি সবগুলোই লাগাতে হবে। ধনের বোঝা অনেক বড় ভারি আমানত। এ ভার বহনের কারণে তাঁদের দীন ও ঈমান অনেক চাপের মধ্যে থাকে। তাই একে রক্ষার জন্যে খুঁটি দুটি বেশি দেওয়া হয়েছে। ঈমান, নামায ও রোযার সাথে যাকাত ও হজ পালনের খুঁটিও যুক্ত করতে হবে। নতুবা তাদের দীন কাত হয়ে যাবে, কিংবা ধ্বসে পড়বে। এমনকি তারা ঈমানহারাও হয়ে যেতে পারে, নাউযুবিল্লাহ।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। যার ওপর হজ ফরয হল, কিন্তু হজ পালনে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, না সে কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত, না কোনো জালিম তার পথ আগলে রেখেছে, না অন্য কোনো দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা আছে; তথাপি যদি সে হজ না করে, সে ইয়াহুদি বা খৃস্টান হয়ে মরলেও কোনো পরোয়া নেই। (তিরমিযী ও বায়হাকী)
ইমাম ইবনু তাইমিয়া বলেছেন : এ লোকদের ব্যাপারে আশঙ্কা আছে যে, তারা ইয়াহুদি বা খৃস্টান হয়ে মারা যাবে, নাঊযুবিল্লাহ।
লক্ষ করলে দেখা যায়, উচ্চবিত্তবান লোকেরা পশ্চিমাদের চিন্তাধারাকে বেশি ভালোবাসে। তারা ওয়েস্টার্ন লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত। আল্লাহ মালুম এদের কতজন ভেতরে ভেতরে ইয়াহুদি-নাসারার আকীদা পোষণ করে। এমতাবস্থায় গড়পড়তা সবাইকে ইয়াহুদি-নাসারা হয়ে গেছে বলা সুকঠিন হলেও এদের বেশিরভাগই চিন্তাগত ও সংস্কৃতিগত ধর্মত্যাগী, তা স্পষ্ট।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি যখন মেরাজ রাত্রিতে জান্নাত জাহান্নাম পরিদর্শন করি, তখন আমি জাহান্নামে দুই শ্রেণীর মানুষকে বেশি দেখেছি। এক. ধনী, দুই. রমণী।
এর অর্থ হল ধনীরা ধনের হক আদায় না করার কারণে, কিংবা ধনের ফিতনায় পড়ে দীন ধর্মকে উপেক্ষা করবে। ফলে তারা জাহান্নামে পতিত হবে। বাস্তবেও তাই। সমাজ ও পৃথিবীর সকল বড় বড় পাপ ও অপরাধের সাথে বিত্তবানেরা জড়িত। সকল বড় বড় যুদ্ধের পেছনে এরা সক্রিয়।
রমণীরাও তথৈবচ। ধনী ও রমণী প্রায় সকল ফিতনার জনক-জননী। সমাজ ও বিশ্বকে কলুষিত করার পেছনে এ দুপক্ষের দায় সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই সকল ধনী ও সকল রমণীর এর সাথে জড়িত নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের এ দুশ্রেণীর মানুষকে ইসলাহ করে দিন।
সুতরাং হে ধনী ও বিত্তবান ভাইয়েরা, ধনের হক আদায়ে সচেতন হোন। বিত্তবান হওয়ার কারণে আপনার ওপর কী কী দায়িত্ব রয়েছে, তা বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে নিন এবং তার আমল করতে চেষ্টা করুন। নিজেকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করুন। এ ধনসম্পদ দিয়ে যদি আপনি জান্নাতে যেতে না পারেন এবং আল্লাহর ধরা হতে আত্মরক্ষা করতে না পারেন; তা হলে এ সম্পদের কী লাভ?
লেখক: সাইফুদ্দিন গাজী
সংগৃহীত: হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে