ইরানকে ঘিরে নতুন এক অর্থনৈতিক সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে শেল কোম্পানি ও ব্যাংক ব্যবহার করে ইরান প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করেছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ও পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আজ চীন, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব দেশের এখতিয়ারাধীন ব্যাংকগুলো ইরানের এই বিশাল অবৈধ আর্থিক প্রবাহে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে। অবিলম্বে এসব সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত এবং তা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে সহায়তা করা বিদেশি ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া বিধি লঙ্ঘনের জন্য বড় অংকের জরিমানা এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া সকল ট্রানজেকশনের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে ইরানের কথিত সমর্থন এবং তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম চিরতরে বন্ধ করার জন্য কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ‘এখনই সময়’।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড আরও দুর্বল করে দেওয়ার একটি কৌশল। বিশেষ করে এশিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর এই চাপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
(সূত্র: এনবিসি নিউজ)