প্রথমেই মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎপৃষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি স্পর্শ করা যাবে না। কারণ এতে উদ্ধারকারী ব্যক্তিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হতে পারেন। প্রথমে মূল সুইচ বন্ধ করতে হবে অথবা প্লাগ/বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা রাবারের বস্তু ব্যবহার করে ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করতে হবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর দ্রুত রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একই সাথে জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দেরি হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসার সময় রোগীকে শান্ত রাখতে হবে এবং অযথা নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শরীরে পোড়া দাগ থাকলে সেখানে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকা করে ঢেকে দিতে হবে। কোনো ধরনের তেল বা ঘরোয়া উপাদান ক্ষতস্থানে লাগানো উচিত নয়, এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার পর যত দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, ততই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত, সতর্ক ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করলেই অনেক সময় এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিদ্যুতের কাজ করার সময় সবসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা এবং শিশুদের থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ দূরে রাখা উচিত।