কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৈঠক সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিরোধ বেঁধেছে দুটি প্রধান ইস্যুতে। প্রথমত, ইরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ তৃতীয় কোনো পক্ষ বা দেশের কাছে হস্তান্তর করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। দ্বিতীয়ত, লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষ একমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান দাবি করেছিল সমগ্র লেবাননে তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বৈরুতে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইসরায়েলকে রাজি করাতে পেরেছিল এবং পর্যায়ক্রমে তা দক্ষিণ লেবাননে কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরান এই আংশিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আলোচনা ভেস্তে যায়।
তবে এই অচলাবস্থার মধ্যেও ক্ষীণ আশার আলো দেখছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে ‘আল-মায়াদিন’ জানিয়েছে, জেডি ভ্যান্স আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলেননি। আগামী এক সপ্তাহ বা দশ দিনের মধ্যে নতুন একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল নিয়ে আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় ওই অঞ্চলে পুনরায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
(সূত্র: অ্যাক্সিওস ও আল-মায়াদিন)