ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই সুর নরম করে সম্ভাব্য চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই অবস্থান পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সেখানে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বলেন।
তবে এর অল্প সময় পরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে এবং সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যেই একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
যদিও তেহরান বারবারই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো আলোচনা করছে না এবং পূর্বের অবস্থানেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কঠোর হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার আশাবাদ—এই দ্বৈত অবস্থান বর্তমান ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।