মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টাকালে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে দুই রোহিঙ্গা মুসলিম যুবক নিহত হয়েছেন। গত ৩১ মার্চ থা ইয়েত ওক গ্রামের কাছে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় চারজন রোহিঙ্গাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান এবং বাকি দুজন ভাগ্যক্রমে পালিয়ে গ্রামে ফিরতে সক্ষম হন।
বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে; তিনি মোহাম্মদ ফারুক, পিতা মোহাম্মদ সালিম। অন্যজন জিয়াউর রহমান বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রাখাইন জুড়ে আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান নির্যাতন, অপহরণ এবং সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন অনেক রোহিঙ্গা পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মংডু ও এর আশপাশের এলাকায় বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেবল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীই নয়, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।