রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলা, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই ঝড়ে নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অফিসফেরত মানুষসহ সাধারণ নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে আকাশে ঘন কালো মেঘ জমার পরপরই দমকা হাওয়া ও ধুলিঝড় শুরু হয়। পরে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা তীব্র ঝড়ে রূপ নেয় এবং রাত ৮টার দিকে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। মিরপুর-১০, বাংলামোটর, শাহবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টির ঘটনাও দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ঝড়ো হাওয়ার পর ধুলিঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এরপর বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানির সঙ্গে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন, বিশেষ করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি বিপাকে পড়েন।
বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। অফিস ছুটির সময় ঝড় শুরু হওয়ায় সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের শুরুতে এ ধরনের কালবৈশাখী ঝড় স্বাভাবিক হলেও এর তীব্রতা বেশি হলে জনজীবনে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।