বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে প্রায় ৩৫টি দেশকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজন করছে যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকের আয়োজন করছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালী চালু করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়া সহজ হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সম্ভাব্য মাইন ব্যবহারের হুমকি দিয়ে কার্যত নৌপথটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের জন্য এটি বন্ধই থাকবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আসন্ন বৈঠকে যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ অংশ নেবে, যারা সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।
এদিকে, ন্যাটো জোট নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার মধ্যেও ন্যাটো-এর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্টারমার। তিনি বলেন, জোটটি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে এবং যুক্তরাজ্য এর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।