জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা

আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন
ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া , ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, আটলান্টা, জর্জিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসা ও সম্মাননা প্রদান করেছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় উদ্যোগের মাধ্যমে সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে (৪৮-০ ভোটে) সিনেট রেজুলেশন ৮৩৪ গৃহীত হয়, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা সমর্থন জানান। প্রস্তাবনায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় এবং এ স্বীকৃতির কূটনৈতিক ও নৈতিক গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন ও পাস করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বৈশ্বিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। তার এই উদ্যোগ জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অবদান এবং জাতিসংঘ মিশনে কর্মরতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেজুলেশন অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে পরিচালিত ৬৩টি মিশনে ২ লাখের বেশি বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন, যা তাদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক শান্তির প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের আটটি সক্রিয় জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। রেজুলেশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া ১৭৪ জন এবং আহত হওয়া ২৮০ জনেরও বেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

জর্জিয়া সিনেট উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও জনগণ-স্তরের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অবদানও তুলে ধরা হয়।

এই রেজুলেশন গ্রহণের মাধ্যমে জর্জিয়া সিনেট বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং যারা কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।

সেনেটর শেখ রহমান বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের এই সময়ে উভয় দলের সম্মতিতে এ ধরনের স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং আন্তরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৈশ্বিক ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সম্প্রদায়েও ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এ উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষায় নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তায় দেশের সুনাম আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, আজ ৩১ মার্চ জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেজুলেশন গ্রহণ করবেন।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]