ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংঘটিত এ হামলার জন্য ইরান ও লেবাননভিত্তিক শক্তিগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এর বরাতে ইসরাইলি সূত্রগুলো জানায়, Bazan Group পরিচালিত হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর স্থাপনাটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি ডিস্টিলেট ট্যাংকের ছাদে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
তবে অগ্নিকাণ্ডটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নাকি প্রতিরোধ করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ঘটেছে—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার কমান্ডার ইতান রিফা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়েনি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা হাইফায় অবস্থিত একটি ইসরাইলি নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে এবং তা পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে, এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।