পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ অবকাশ কাটিয়ে নাড়ির টান ছেড়ে আবারও যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। শনিবার (২৮ মার্চ) ছুটির শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সোনালী সময় পেছনে ফেলে জীবিকার তাগিদে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরছেন নগরবাসী।
এবারের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঈদের মূল ছুটি আগে শেষ হলেও, অনেক কর্মজীবী মাঝের দুদিন (২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর) বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা একটি লম্বা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন তারা। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, বাড়তি ছুটির কারণে এবার তাড়াহুড়ো ছাড়াই ফিরতে পেরেছেন, তবে ফেরার পথে গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। আগামীকাল রোববার (২৯ মার্চ) থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা এবং গার্মেন্টস কারখানাগুলো পূর্ণোদ্যমে চালু হওয়ায় আজই ফেরার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সবাই।
যাত্রীদের চাপে ঢাকার প্রবেশমুখ আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও, মহানগরের অভ্যন্তরীণ চিত্র এখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন। মতিঝিল, শাহবাগ ও ফার্মগেটের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলো এখনো অনেকটাই ফাঁকা। নেই বাসে ওঠার চিরচেনা হুড়োহুড়ি কিংবা অসহনীয় যানজট। ফাঁকা রাজপথে এখন শুধুই রিকশার রাজত্ব। রিকশাচালক কালু মিয়া জানান, জ্যাম ছাড়া রিকশা চালিয়ে শান্তি পেলেও মানুষ কম থাকায় আয় কিছুটা কম হয়েছে।
ছুটির এই শেষ বিকেলে অনেক দম্পতি ও পরিবারকে দেখা গেছে ফাঁকা ঢাকার শান্ত রূপ উপভোগ করতে। মালিহা ও আরমান দম্পতির মতো অনেকেই রিকশায় চড়ে নির্ঝঞ্ঝাট ঢাকা শহর ঘুরে দেখছেন। তবে এই স্নিগ্ধতা আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ধারণা, আগামীকাল সকাল থেকেই রাজধানী আবার তার চিরচেনা জনাকীর্ণ ও কোলাহলপূর্ণ রূপে ফিরবে।