ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের শোক ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন ইংলিশ’ দাবি করেছে, এটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তার কার্যালয়ে তোলা শেষ ছবি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় তার নিহত হওয়ার পূর্বের সময়কে ধারণ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক ভয়াবহ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, সকালের দিকে যখন এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়, তখন খামেনি নিজ দপ্তরে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, খামেনির পুরো প্রাসাদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা প্রাণ হারান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে, যিনি তার প্রাসাদ চত্বরেই নিহত হন।
খামেনির আকস্মিক মৃত্যুতে ইরানের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনির নাম বর্তমানে জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় মোজতবা বাগানে হাঁটতে বের হওয়ায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যমতে, খামেনিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এই ঘটনাটিকে একটি যুগান্তকারী মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে তেহরানের রাজপথে খামেনির এই শেষ ছবি সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার ইরানিদের মধ্যে তীব্র শোক ও প্রতিরোধের স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতার এই প্রয়াণ ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অভিযানকে তাদের বড় সাফল্য দাবি করলেও, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ও পাল্টা হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। খামেনির এই শেষ ছবি মূলত একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং ইরানের এক অনিশ্চিত যাত্রার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(সূত্র: দ্য ডন)