ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘অবৈধ যুদ্ধে’ জড়িয়ে ফেলেছে, যা দেশীয় অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জেফ্রিজ বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক এবং তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের নীতির কারণে সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, আবাসন ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব নীতির ফলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
জেফ্রিজ দাবি করেন, ‘মেডিকেইড’ খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর প্রভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে লাখো মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান ইস্যুতে প্রশাসনের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার জনগণকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি কেন প্রতিদিন বিপুল অর্থ ব্যয় করে এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ নেই।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়েও সতর্কতা দেন জেফ্রিজ। তিনি বলেন, এই সংঘাত হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে জবাবদিহির দাবি জানান।