হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিতভাবে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

আপলোড সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:২০:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:২০:১৫ অপরাহ্ন

 

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে সীমিতভাবে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি শনিবার (১৪ মার্চ) নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু ভারতীয় জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে ঠিক কতগুলো জাহাজ পার হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি।
 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ’ অনুষ্ঠানে ফাতহালির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
 

ভারতের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পর্যটন, নৌপথ ও জলপথ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, দুটি ভারতগামী ট্যাংকার ইতোমধ্যে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকার দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করা হচ্ছে।
 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ও ইতালি ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে শিপিং কোম্পানিগুলো সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে পশ্চিমা নৌবাহিনীর সহায়তার দিকেও নজর রাখছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে চাপ দিচ্ছে যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকে।
 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বীমা সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য কয়েকটি পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনীকে প্রণালীতে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া।

এ ছাড়া জাপান থেকে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে, যারা দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছে নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে ইরানের তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, যদিও এ ধরনের সরাসরি হামলার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]