নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্রিকেটের আম্পায়ারের মতো জাতীয় সংসদেও তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধ–এ ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্মৃতিসৌধটি সাভার–এ অবস্থিত।
স্পিকার বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে দেশ একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছে। আগামী দিনে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তবে সংসদের ভেতরে স্লোগান দেওয়া সংসদের রেওয়াজের বাইরে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান স্পিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে সব দল শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিরপেক্ষ থাকবেন। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার নিরপেক্ষ থাকেন, সংসদেও তারা সেই ভূমিকা পালন করবেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মো. সাহাবুদ্দিন–এর আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর নাম প্রস্তাব করেন।
পরে তার সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব আনা হয়। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম স্পিকার হিসেবে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। এতে সমর্থন দেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম।
কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন।
এদিকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামাল–এর নাম প্রস্তাব করেন নাটোরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রস্তাবে সমর্থন দেন সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম।
পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে কায়সার কামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। উদ্বোধনী অধিবেশনে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।