বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার কাছে বড় বিষয় হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ঠেকানো। তার ভাষায়, ইরানের মতো একটি শক্তিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বানও জানান।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রফতানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে গত সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়। যদিও পরে কিছুটা কমেছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো দাম অনেক বেশি রয়েছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।