মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মালয়েশিয়া, কুয়েত ও ওমানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim জানান, কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী Sheikh Ahmad Abdullah Al-Ahmad Al-Sabah এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sayyid Badr Albusaidi–এর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ঘিরে উদ্ভূত আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই মূলত এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়া কুয়েত ও ওমানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি দুই দেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থনও জানায়।
আলোচনায় কুয়েত ও ওমানের সরকার সেখানে অবস্থানরত মালয়েশীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। মালয়েশিয়ার মতে, চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই দেশের প্রতিশ্রুতি প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে এই সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ওমানের ভূমিকারও প্রশংসা করে মালয়েশিয়া। আলোচনায় বলা হয়, ওমানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মালয়েশিয়ার দৃষ্টিতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গঠনমূলক সংলাপ ও মধ্যস্থতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলোচনার শেষ দিকে নেতারা একমত হন যে, যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং তা এড়িয়ে চলা জরুরি। একই সঙ্গে পবিত্র রমজানের সময়কে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা জাগ্রত করার একটি সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।