বিশ্বের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে পারস্য উপসাগরের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক ইউরিয়া সারের মোট সরবরাহের প্রায় ৪৫ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে, যা সরাসরি হরমুজ প্রণালী হয়ে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই কৌশলগত সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক সারের বাজারে এক নজিরবিহীন ‘সাপ্লাই শক’ বা সরবরাহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ইউরিয়া মূলত নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের প্রধান উৎস, যা বিশ্বের অর্ধেক খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। কাতার, সৌদি আরব এবং ইরানের মতো বৃহৎ উৎপাদনকারীরা এই পথটি ব্যবহার করেই এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে সার রপ্তানি করে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সারের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি উৎপাদনে। সারের উচ্চমূল্য বা দুষ্প্রাপ্যতার কারণে কৃষকরা আবাদ কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।