সংকটের মাঝেও গাড়ি আমদানির হিড়িক

আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০১:২২:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৩-২০২৬ ১০:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়ি আমদানির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণির গাড়ি—বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও এসইউভি—আমদানিতে নতুন করে গতি দেখা গেছে। এতে একদিকে বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বাজারে গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিতও মিলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত এক বছরে আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকলেও গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্থবিরতা তৈরি হয়নি। বরং কিছু সময়ের স্থবিরতার পর নতুন করে আমদানির প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য (রিকন্ডিশন্ড) গাড়ির আমদানিতে ব্যবসায়ীরা বেশি সক্রিয় হয়েছেন। দেশের গাড়ির বাজারে এই ধরনের গাড়ির চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যক্তিগত পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা, শহরাঞ্চলে গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার একটি অংশ গাড়ির বাজারে প্রবাহিত হওয়ায় এই খাতে চাহিদা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আগে খোলা এলসির বিপরীতে গাড়ি দেশে প্রবেশ করায় আমদানি পরিসংখ্যানে বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ থাকা অবস্থায় বিলাসপণ্যের আমদানি বাড়া নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। কারণ গাড়ি আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। তাই আমদানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গাড়ি আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বাড়তির দিকে রয়েছে। যদিও মোট আমদানির ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকর আছে, তবু গাড়ির বাজারে ধীরে ধীরে গতি ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি সীমিত থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে। তবে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর এই প্রবণতা অনেকটাই নির্ভর করবে।
 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]