মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে ইরাকের জাতিসংঘ দপ্তর এবং কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করেছিল যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘খোলা জায়গায়’ পড়েছে, তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, হাইফা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এতে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কৌশলগত অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরাকের সুলাইমানিয়া এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, সুলাইমানিয়ার বিখ্যাত ‘টাইটানিক হোটেল’-এ মার্কিন সৈন্য থাকার সন্দেহে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুলাইমানিয়ায় অবস্থিত জাতিসংঘ (UN) সদর দপ্তর এবং তুর্কি কনস্যুলেটের কাছে দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। রয়টার্স এই ড্রোন হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে একে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলোতে ড্রোন দিয়ে সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ পড়েনি বাহরাইনও। পারস্য উপসাগরীয় দেশটিতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সালমান বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বন্দরের জ্বালানি বা কার্গো টার্মিনালে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কাছাকাছি এই হামলাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন আর নির্দিষ্ট কোনো ফ্রন্টে সীমাবদ্ধ নেই। হাইফা থেকে শুরু করে কুয়েত ও বাহরাইন পর্যন্ত ইরানের এই সমন্বিত হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি মিত্রদের প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রকে অচল করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ভবনের কাছে ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকটে রূপ দিতে পারে। (সূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা)