আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত তথা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন বরাবর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় অন্তত ২৫৭ জন পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়েছে। ‘রিফদুজ জুলুম’ নামক একটি বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এতে ১০৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৪৮ জন আহত হয়েছে বলে কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আফগান সংবাদমাধ্যম হুরিয়াত রেডিও এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খাওয়ারিজমি এক ভিডিও বার্তায় জানান, কান্দাহার, নানগারহার, কুনার, খোস্ত, পাক্তিয়া ও পাক্তিকা প্রদেশ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। এই হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর বড় ধরনের কৌশলগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে:
- গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনীর ১৪টি সামরিক চৌকি এবং ৩টি সামরিক ঘাঁটি দখল করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ধ্বংস হওয়া চৌকির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪টিতে।
- আফগান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ১০টি সামরিক যান ধ্বংস করেছে এবং গত রাতে দুটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ হালকা ও ভারী অস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে তারা।
মন্ত্রণালয়ের অন্য এক মুখপাত্র তেহেরাজাদেহ জানান, এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৩ জন আফগান সেনা ‘শহীদ’ হয়েছেন এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণে ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৩ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কাবুল। আফগানিস্তানের দাবি, মূলত পাকিস্তানি বিদ্রোহীদের দমন এবং সীমান্ত সীমারেখার সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক ‘রিফদুজ জুলুম’ অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের এই সরাসরি সংঘাত অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ডুরান্ড লাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন একটি বড় ধরনের সীমান্ত যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা (ISPR) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।