মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদের প্রবণতায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক স্থানে মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্প বন্ধ রাখা কিংবা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষি, ট্রাক চালক এবং সাধারণ মোটরসাইকেল আরোহীরা।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকরা সেচযন্ত্রের জন্য ডিজেল না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম দিলেই তেল মিলছে, নতুবা সংকটের দোহাই দিয়ে দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে। মেহেরপুরের গাংনীতে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করা কৃষক ফয়সাল উদ্দিন জানান, ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার ট্রাক চালকরা জানিয়েছেন, পাম্প থেকে চাহিদামতো তেল না দেওয়ায় ঢাকা বা সিলেটের মতো দীর্ঘ পথের ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এর ফলে কাঁচাবাজার ও সবজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় তারা সরবরাহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও কুমিল্লার পাম্প ম্যানেজাররা জানান, অনেকেই নিয়ম ভেঙে কন্টেইনারে করে তেল মজুদ করছেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। তবে অনেক স্থানে পাম্প মালিকরা তেলের দাম বাড়ার অপেক্ষায় পাম্প বন্ধ রাখছেন বলে সাধারণ গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। মেহেরপুর জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর জানান, দাম বাড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক খবর না থাকলেও মানুষের আতঙ্কেই এই ভিড় তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানিয়েছেন, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং পাম্প মালিকদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে তেল মজুদ না করতে এবং আতঙ্কিত না হতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।