হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ১৫টি জাহাজ, এলএনজি ও কাঁচামাল নিয়ে আসা শুরু

আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৪:১৩:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৪:১৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করা ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান নিয়েছে এবং বাকি ৩টি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আগেই এই জাহাজগুলোর নিরাপদ আগমন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে ৪টিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ২টিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং ৯টিতে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার। কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামক দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘সেভান’ নামক এলপিজি বাহী একটি জাহাজ আজ রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সোমবার ‘লুসাইল’ এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামক আরও দুটি এলএনজি জাহাজ পৌঁছালে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি দেশের জ্বালানি মজুতকে সমৃদ্ধ করবে।

 

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা এই জাহাজগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল (ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর) রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই এই জাহাজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার হতে পেরেছে। তবে বর্তমানে দুই-একটি জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি বন্দরে আটকে থাকতে পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

 

উল্লেখ্য যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার সিংহভাগই জ্বালানি পণ্য। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে আসা এই আমদানির ওপর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভরশীল। সমুদ্রগামী মেরিনার ও জাহাজ মালিকরা বর্তমান পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। যদি দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

 

 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]