মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন এক ইরানি কর্মকর্তা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন আঘাত হানতে পারে যা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং নিশ্চিত মৃত্যুর’ কারণ হতে পারে।
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিএনএনকে দেওয়া মন্তব্যে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিস্তারের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল, সামরিক উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করছে। যেসব স্থাপনা এখনো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় নেই, সেগুলোও তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় ইরানের রাজধানী Tehran-এ হামলা চালানো হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন; তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন।