দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে কোনো পূর্ব তথ্য না দিয়েই দেশটির ওসান (Osan) বিমানঘাঁটি থেকে ১০০০-এরও বেশি ‘পেভওয়ে’ (Paveway) গাইডেড বোমা কিট সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘চোসুন ইলবো’ (Chosun Ilbo)-র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অত্যন্ত গোপনে এই বিশাল সমরাস্ত্র সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, কৌশলগত এই সমরাস্ত্র স্থানান্তরের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের সাথে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা পরামর্শ করেনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিউলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত দেশের মাটিতে মজুত রাখা অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় জরুরি ছিল। এই ঘটনাটি কোরিয়া উপদ্বীপে মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এটি মূলত একটি লেজার বা জিপিএস গাইডেড সিস্টেম, যা সাধারণ ও ওজনে ভারী ‘বোকা বোমা’ (Dumb Bomb)-কে অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রাণঘাতী ‘স্মার্ট বোমা’-তে পরিণত করতে সক্ষম। ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় সমৃদ্ধ দেশে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে এই কিটগুলো অপরিহার্য। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়েও পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানের আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য এই ধরনের প্রিসিশন-গাইডেড সমরাস্ত্রের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। সিউলের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বলয় থেকে এসব সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি বড় ‘ছিদ্র’ তৈরি করতে পারে।