ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন তেহরানের দক্ষিণে পবিত্র শহর কোম-এ এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
- তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের পবিত্র শহর কোম, যেখানে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের সমবেত হওয়ার কথা ছিল।
- বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
- ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী ওই ভবনে জ্যেষ্ঠ নেতারা নতুন নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সমবেত হয়েছিলেন। তবে হামলার সময় কতজন সদস্য ভেতরে ছিলেন এবং প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়। ওই শূন্যতা পূরণে এবং উত্তরাধিকারী নির্বাচনে মঙ্গলবার সকালেই বিশেষজ্ঞ পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
হামলার আগে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আলী মোয়ালেমি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি তারা দীর্ঘায়িত করবেন না। তিনি শপথ করে বলেন, “নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক মত বা দলীয় প্রভাব কাজ করবে না; বরং কেবল ধর্মীয় বিধান ও জাতীয় স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।” তবে এই হামলার পর নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই ইসরায়েল বেছে বেছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যাতে দেশটিতে নেতৃত্বের সংকট আরও গভীর হয়।