গণভোটে প্রাপ্ত জনরায়ের ভিত্তিতে ঘোষিত সংস্কারসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিষয়টি আদালতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দল রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে গণভোটকে সমর্থন দিয়েছে এবং সেই রায়কে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, গণরায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগকে বিতর্কের মুখে ফেলা উচিত নয়।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের প্রতি আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচার ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এসব ইস্যুর সমাধান ছাড়া সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না বলে মত দেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আড়ালে গুজব ছড়ানো উচিত নয় এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিহার করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিছু গণমাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে এবং ঘোষিত সংস্কার কার্যকর না হলে দল পুনরায় আন্দোলনে যাবে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে তা মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংস্কার বাস্তবায়ন ঘিরে চলমান বিতর্কে এনসিপির এই অবস্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।