মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসী সুরক্ষায় প্রস্তুত দক্ষিণ কোরিয়া, সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত

আপলোড সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ১১:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ১১:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় নাগরিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
 

৩ মার্চ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে জরুরি প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কোরীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশে বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারী এবং ১৭ হাজার দীর্ঘমেয়াদি প্রবাসী। দুবাইয়ে প্রায় ২ হাজার কোরীয় নাগরিক অবস্থান করছেন, যাদের অনেকেই ইউরোপ ও আফ্রিকাগামী ফ্লাইটের ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে সেখানে রয়েছেন। এছাড়া ইরানে ৫৯ জন এবং ইসরায়েলে ৬১৬ জন কোরীয় নাগরিক অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনে বিশেষ ফ্লাইট ও সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপদ অঞ্চলে স্থানান্তর, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় রাখা এবং স্থানীয় দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে এবং নাগরিকদের সতর্ক করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু অঞ্চলেও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। তবে ইরান, ইসরায়েল, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
 

অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিউল। অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী হয়ে আমদানি করা হয়। ফলে ওই অঞ্চলের অস্থিরতা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
 

সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিউল।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]