মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যৌথ হামলার পর পাল্টাপাল্টি আঘাতে পুরো অঞ্চল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১২' ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার দাবি করলেও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুজনেই সুরক্ষিত ও জীবিত আছেন। তবে উত্তেজনার চরম পর্যায়ে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, এই গুপ্তহত্যা মিশনে আইআরজিসি (IRGC) অধিনায়ক মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরযাদা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ‘মিলিটারি সি লিফট কমান্ড’-এর একটি যুদ্ধসহায়ক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়া ও চীনের আহ্বানে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া তীব্র। তুরস্ক এই হামলাকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। চীন তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইরানের প্রতি নৈতিক সংহতি প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানকে হামলা থেকে নিবৃত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও জর্ডান রিয়াদে মার্কিন অবস্থানে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৫৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার সংকটে রূপ নিয়েছে।