ঈদযাত্রায় নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় এবার ১০৫টি কোচ (বগি) মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫৯টি কোচের মেরামত কাজ শেষ করে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে অবশিষ্ট কোচগুলো মেরামত করে পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান রেলওয়ে পাহাড়তলী কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক। এদিকে এবারের ঈদযাত্রায় পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৯০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
সম্প্রতি পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, যে সব কোচে মেরামতের কাজ শেষ হচ্ছে সাথে সাথে অপর গ্রুপের শ্রমিকরা সেই কোচে রঙের কাজ করছেন, আরেক গ্রুপের শ্রমিকরা ইলেক্ট্রিকের কাজ করছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে কারখানার বিভিন্ন শপের শ্রমিক–কর্মচারীরা শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর ঈদে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে রেলওয়ের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর কারখানায় পুরনো সব বগি মেরামত করা হয়। এ সব বগি ঈদের সময় প্রতিটি ট্রেনে চাহিদা মাফিক যুক্ত করা (অতিরিক্ত কোচ হিসেবে) হয়।
জানা গেছে, ঈদে প্রতিটি ট্রেনে ৪ থেকে ৫টি করে অতিরিক্ত বগি যুক্ত হবে। নিয়মিত ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম–চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ঈদ স্পেশাল চালু করা হবে।
এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাহাড়তলী কারখানায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো বগিগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয় বলে জানান কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক।
ঈদযাত্রায় প্রতিদিন প্রয়োজন হবে ৯০টি ইঞ্জিন : এবারের ঈদযাত্রায় পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৯০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হবে বলে জানান পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গত বছর ঈদুল ফিতরে ৯০টি ইঞ্জিন লেগেছিল। এবার ঈদুল ফিতরে নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহনে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে কি পরিমাণ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) লাগবে সে বিষয়ে শনিবার (আজ) রেলভবনে মিটিং হবে। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। গত ঈদের মতো এবারও ৯০টির মত ইঞ্জিন লাগতে পারে বলে জানান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হলেও পাওয়া যায় ৭৮ থেকে ৮০টি। ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তাই ওইদিক থেকে কিছু ইঞ্জিন পাওয়া যায়।
বর্তমানে ৭০টির মত ইঞ্জিন মোটামুটি ভালো আছে জানিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশল রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক আজাদীকে বলেন, অবশিষ্ট ইঞ্জিনগুলো ঈদের আগেই মেরামত করতে হবে। শনিবারে রেলভবনের মিটিংয়ে সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে এবার কি পরিমাণ ইঞ্জিন লাগবে। তবে ঈদকে সামনে রেখে আমরা পাহাড়তলী ডিজেলশপে পুরনো ইঞ্জিনগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছি। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিন মেরামত করা হয়।
পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশল রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক জানান, বর্তমানে রেলের বহরে মোট ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৭টি। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। এরই মধ্যে রেলওয়ের ৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়েছে। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে রেলওয়েতে এমন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৪৭টি। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০টি ও ৩১ থেকে ৪০ বছরের বয়সী রয়েছে ১৬টি। অবশিষ্ট ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে।
বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশল রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক বলেন, ডিজেলশপে দক্ষ লোকবল না থাকায় নতুন লোকবল দিয়ে ইঞ্জিন মেরামত করে আজকে দেয়ার পর সেটি আবার পরের দিন মেরামতের জন্য ডিজেলশপে ঢুকাতে হয়। ইঞ্জিন মেরামতে যে মানের যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয় সেই মানের যন্ত্রাংশেরও অভাব রয়েছে। অপরদিকে ডিজেলশপে ইঞ্জিন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নেই। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন পাওয়া গেলে ট্রেন পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না।