রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এক ব্যক্তির মরদেহ তামাকক্ষেতে মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা প্রথমে মাঠে রক্তের দাগ ও একটি জুতার জোড়া দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝাকুয়াপাড়া এলাকার একটি তামাকক্ষেতে রক্তের চিহ্ন ও একটি জুতা দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন। পরে তারা নিখোঁজ মঞ্জুরুল হোসেনের জুতা হিসেবে এটি শনাক্ত করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সন্ধানে খোঁজ শুরু করেন।
মঞ্জুরুল হোসেনের ভাতিজা আখতারুজ্জামান জানান, তার চাচা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তামাকক্ষেতে রক্তের দাগ ও জুতা পাওয়ার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন। পরদিন সকালে আবার এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জমির মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হলে মাটি সরিয়ে সেখানে মঞ্জুরুল হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। তবে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার হয়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ–এর তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত ব্যক্তির পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে।