বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় কয়লা খালাস করতে পারছে না এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড পরিচালিত বাঁশখালী ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। এলসি (ঋণপত্র) জটিলতায় একটি কয়লাবাহী জাহাজ বহিঃসমুদ্রে আটকা পড়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ আর মাত্র ১০ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। প্রায় পাঁচ মাসের বকেয়া বিল ৪ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে এলসি খোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা চলমান সেচ মৌসুমে সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিগত কয়েকদিন ধরে কয়লাবাহী একটি জাহাজ বহিঃসমুদ্রে নোঙর করে থাকলেও বিল বকেয়া থাকায় তা খালাস করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে অন্তত ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। তবে বিপিডিবি জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল না পাওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফার্নেস অয়েল বা আমদানিকৃত বিদ্যুতের তুলনায় বাঁশখালীর এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী। যেখানে ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২৭.৩৯ টাকা, সেখানে এই কেন্দ্রে জ্বালানি ব্যয় মাত্র ৭ টাকার কাছাকাছি। পূর্ণ সক্ষমতায় চললে এই কেন্দ্রটি মাসে প্রায় ৯৫ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে সরকারকে মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।
চুক্তির ধারা ১৩.২(জে) অনুযায়ী, বকেয়া পাওনা ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেলে কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী তারা ক্যাপাসিটি পেমেন্ট পাওয়ার অধিকারী। বর্তমানে দেশে গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় কয়লাভিত্তিক সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে আরও তিনটি কয়লাবাহী জাহাজ আসার কথা থাকলেও বর্তমান সংকটের সমাধান না হলে সেগুলোর এলসি খোলা নিয়ে জটিলতা কাটছে না। তবে বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী রবিবারের মধ্যে আংশিক অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে, যাতে অন্তত কয়লা খালাস শুরু করে উৎপাদন সচল রাখা যায়।