পবিত্র রমজানে রোজা অবস্থায় দাঁতে আটকে থাকা খাবার অনিচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোজা ভাঙবে কি না—এ প্রশ্ন বহু রোজাদারের মনে আসে। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, বিষয়টি নির্ভর করে খাদ্যকণার পরিমাণ ও তা মুখের ভেতরে ছিল নাকি বাইরে বের করার পর পুনরায় গিলে ফেলা হয়েছে—এই পার্থক্যের ওপর।
রমজান আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; বরং আচরণ, নিয়ত ও দৈনন্দিন আমলে সংযমের একটি সমন্বিত সাধনা। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তা ত্রুটিযুক্ত করা হয় (Sunan an-Nasa'i)। ইসলামী চিন্তাবিদরা ব্যাখ্যা করেন, রোজা মানুষকে দুনিয়ার গুনাহ ও আখিরাতের শাস্তি থেকে রক্ষা করে।
ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, সাহরির পর দাঁতের ফাঁকে কোনো খাদ্যকণা থেকে গেলে এবং তা মুখ থেকে বের না করে লালার সঙ্গে গিলে ফেলা হলে—তার বিধান খাদ্যের আকারের ওপর নির্ভরশীল। যদি তা ছোলা বুটের সমান বা তার চেয়ে বড় হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে। আর যদি ছোলার চেয়ে ছোট হয়, তাহলে রোজা ভাঙবে না; তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করা মাকরুহ বা অনুচিত হিসেবে গণ্য।
অন্যদিকে, দাঁতে আটকে থাকা খাবার জিহ্বা বা আঙুল দিয়ে মুখের বাইরে বের করার পর পুনরায় গিলে ফেললে—পরিমাণ যাই হোক না কেন—রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে কাজা আদায় করা আবশ্যক। প্রসিদ্ধ ফিকহগ্রন্থ ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া-তে উল্লেখ আছে, মুখ থেকে বের করার পর পুনরায় গিলে ফেললে তা সামান্য হলেও রোজা নষ্ট হবে।
ওলামায়ে কিরাম রোজাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে কিছু সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। সাহরির পর ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করা, খিলাল বা মিসওয়াক ব্যবহার করা এবং দিনের বেলা দাঁতে কিছু অনুভূত হলে তা গিলে না ফেলে বাইরে ফেলে দেওয়া—এসব অভ্যাস রোজার বিশুদ্ধতা রক্ষায় সহায়ক।
সারকথা, দাঁতের ভেতরে থাকা ছোট খাদ্যকণা অনিচ্ছায় পেটে গেলে রোজা ভাঙবে না। তবে বড় কণা হলে রোজা ভেঙে যাবে। আর মুখ থেকে বের করার পর যেকোনো পরিমাণ খাবার পুনরায় গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হবে। রোজার উদ্দেশ্য পূরণে বাহ্যিক সংযমের পাশাপাশি এ ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।