জাপানের বিশাল শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির লক্ষে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ শ্রমিকের চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ২০টি কার্যক্রম প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, যা এখন জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যমান ৩৩টি টিটিসি’র (Technical Training Center) সাথে আরও ২০টি যোগ করে মোট ৫৩টি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জাপানি ভাষা শিক্ষকের স্বল্পতা দূর করতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানের বাজারে দ্রুত প্রবেশ করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে এই জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। আগামী দুই কার্যদিবস পর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় পুনরায় বৈঠক এবং অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।