কোরীয় উপদ্বীপের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলুদ সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যুদ্ধবিমানের মধ্যে এক বিরল ও উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনকৃত মার্কিন বিমানবাহিনীর (USFK) অন্তত ১০টি এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান চীনের ঘোষিত ‘আকাশ প্রতিরক্ষা চিহ্নিতকরণ এলাকা’ (ADIZ)-এর অত্যন্ত কাছাকাছি টহল দিলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। বেইজিং তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে দুই পরাশক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়।
সামরিক সূত্রমতে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ওসান বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এমন এক আকাশসীমায় অবস্থান করছিল যা দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের নিজ নিজ আকাশ প্রতিরক্ষা সীমার (ADIZ) মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বিমানগুলো টেকনিক্যালি কোনো দেশের সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন না করলেও চীনের এডিআইজেড-এর প্রান্তঘেঁষে ওড়ায় বেইজিং একে উসকানি হিসেবে গণ্য করে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া বা কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও দুই দেশের পাইলটরাই একে অপরের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এই মহড়াকে ‘রুটিন প্রশিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে চীনের প্রতি ওয়াশিংটনের এক শক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে চীনা নববর্ষের ছুটির পরপরই এমন বড় মাপের এফ-১৬ মোতায়েনকে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব রুখে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা সীমানা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলেও এ ধরনের মুখোমুখি অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে বেশ অস্বাভাবিক।