শরীরের বৃদ্ধি, পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি, পেশি ক্ষয়, চুল পড়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স, ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা জরুরি।
প্রাণিজ উৎসের প্রোটিন শরীরের নানা উপকার করতে পারে। ডিমকে সম্পূর্ণ প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ধরা হয়, কারণ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এছাড়া মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, দুধ, দই ও পনির প্রোটিনের ভালো উৎস। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার গ্রহণ করলে পেশি মজবুত হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায়।
উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। ডাল, ছোলা, মসুর, মুগ ডাল, সয়াবিন, রাজমা, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ যেমন চিয়া বা তিল প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে পরিচিত। নিরামিষভোজীদের জন্য এসব খাবার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে ফাইবারও থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ উভয় উৎসের প্রোটিন মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনলে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান পায়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত প্রোটিন গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ, কর্মক্ষম ও শক্তিশালী জীবনযাপন সম্ভব।