৩২ আসনে ফল জালিয়াতির অভিযোগ ১১ দলীয় জোটের, ইসির বক্তব্য—আইনের পথ খোলা

আপলোড সময় : ১৫-০২-২০২৬ ০৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০২-২০২৬ ০৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩২টি আসনে ফলাফল ‘পরিকল্পিতভাবে পাল্টে দেওয়া হয়েছে’—এমন অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
 

তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তাদের করার কিছু নেই; চাইলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।
 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন ভবনে চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন জোটের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
 

তিনি দাবি করেন, ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে ৩২টি আসনে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে জোট-সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব আসনে পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে কমিশনে লিখিত তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আযাদ।
 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর আমির, তিনি নিজে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়কসহ কয়েকজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

আযাদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবি, গেজেট প্রকাশ স্থগিত রেখে অভিযোগ তদন্ত ও পুনর্গণনার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কমিশন তা আমলে নেয়নি।
 

তিনি জানান, কমিশন বলেছে—আইনের পথ খোলা আছে। জোটও আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 

জোটের অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু কেন্দ্রে জালভোট, কালোটাকার প্রভাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ফলাফলে অসংগতি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গণনার সময় এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
 

আযাদের বক্তব্য, কিছু কেন্দ্রের ফলাফলের প্রাথমিক রেকর্ড ও চূড়ান্ত ফলাফলের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান রয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু ফলাফল শিটে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং এবং এজেন্টদের স্বাক্ষর না থাকার অভিযোগও করেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনের একটি রেজাল্ট শিট পেন্সিলে লেখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন।
 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও হারানো অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি, যা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
 

জোটের প্রতিনিধিদলে লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর যে কোনো আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই সাংবিধানিক পথ।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]