সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama তার ও স্ত্রী Michelle Obamaকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বর্ণবাদী ভিডিও প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social–এ।
লিবারেল পডকাস্টার Brian Tyler Cohen–এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবামা সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একসময় সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে যে শালীনতা ও সৌজন্যবোধ ছিল, তা এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে রাজনৈতিক আলোচনার মান নেমে গিয়ে একধরনের ‘ক্লাউন শো’-তে পরিণত হয়েছে।
বিতর্কিত ভিডিওটিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির ভিত্তিহীন দাবি পুনরুল্লেখের পাশাপাশি ওবামা দম্পতিকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও সমালোচনা ওঠে।
রিপাবলিকান দলের সিনেটর Tim Scott এটিকে বর্তমান হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে করা “সবচেয়ে বর্ণবাদী কাজ” বলে মন্তব্য করেন। শুরুতে হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে বিরোধীদের ‘ভুয়া ক্ষোভ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এক কর্মীর ওপর দায় চাপানো হয়। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওর আপত্তিকর অংশটি তিনি দেখেননি এবং এ নিয়ে ক্ষমা চাইবেন না।
সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। তার মতে, বিভেদমূলক বা বর্ণবাদী বক্তব্য অনেক সময় মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
তবে আশাবাদের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশজুড়ে সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, এখনও বহু আমেরিকান নাগরিক সৌজন্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাস করেন। তার ভাষায়, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে পদমর্যাদা রক্ষার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (জেরিম্যান্ডারিং) এবং আগামী বছর Chicago–তে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি উদ্বোধনের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন।
সবশেষে রাজনৈতিক কুরুচি ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান এই সাবেক প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: BBC