ইউক্রেন যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে গিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে পুতিন প্রশাসন। রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকারি বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬২ বিলিয়ন (৬ হাজার ২০০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের খরচ সামলাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারকে বড় অংকের ঋণ নিতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা রুশ সরকারি বন্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১.৯৭ বিলিয়ন ডলারে। এর একটি বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি বন্ড। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি রাশিয়ার বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০০৭ সালে কমে ৫২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছরেও এই ঋণ কখনও ৬০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেনি; তবে এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা।
এদিকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে রাশিয়ার মোট বৈদেশিক ঋণ ২০২৫ সাল নাগাদ ১০.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৩১৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও মিত্র দেশগুলো এবং বিকল্প উৎস থেকে এই বিপুল ঋণ গ্রহণ রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।